মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজীপুর:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। কবর থেকে মায়ের লাশ তুলে এনে ঘরে মশারি টাঙিয়ে লেপ–কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ উঠেছে নিজের মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত নারী খোদেজা বেগম (৬০) কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মোথাজুরী এলাকার মৃত আনতাজ আলী খানের স্ত্রী।
ঘটনার বিবরণ:
এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর খোদেজা বেগম একমাত্র ছেলে সজিব হোসেনকে নিয়ে বসবাস করতেন। কিন্তু সজিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করত।
গত শনিবার বিকেলে মা–ছেলের মধ্যে তীব্র ঝগড়ার পর অভিমান করে খোদেজা বেগম ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন রোববার ময়নাতদন্ত শেষে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কিন্তু গভীর রাতে সজিব একাই কবর খুঁড়ে লাশ তুলে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে মশারি টাঙিয়ে লেপ–কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখে।
লাশ নিখোঁজ, এলাকাবাসীর সন্দেহ ও উদ্ধার:
সোমবার সকালে কবরের মাটি খোঁড়া দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে তারা দেখতে পান—মায়ের লাশ নেই। এ সময় সজিবকে দেখে লোকজন ডাকাডাকি করলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশের সহযোগিতায় সজিবের ঘরের তালা ভেঙে মশারির নিচে লেপ–কাঁথায় ঢাকা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। দুদিনের পুরোনো লাশ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
স্বজনরা জানান, আগের রাতে সজিব মামা আব্দুল মান্নান মিয়াকে ফোন করে মাকে কবর দেওয়ার জন্য খুন–জখমের হুমকি দেয়। এতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্বজন ও এলাকাবাসীর আতঙ্ক:
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন,
“আমরা নিয়ম মেনে লাশ দাফন করেছি। এজন্য আমাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে সজিব। এখন পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, লাশ ঘরে রাখায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছিল। পরে দুপুরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশ পুনরায় দাফন করা হয়।
কি বলছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ:
ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন,
“সজিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মায়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করত। সেই ঝগড়ার জেরে মা আত্মহত্যা করেন। পরে রাতে সে কবর থেকে লাশ তুলে ঘরে রাখে।”
ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সুরুজ জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,
“স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিহতের লাশ পুনরায় দাফন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলে সজিব পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।”