মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়ার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার ১১ দিনের মাথায় সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন, নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আত্মীয় স্বজনদের অভিযোগ, নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা, ঘটনার আগে ও পরে সিসিটিভির ফুটেজ প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তাতে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তাকে নির্যাতনের প্রমাণ মেলেনি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। যেহেতু পরিবার অভিযোগ করছে, তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শেই তাঁকে এখানে ভর্তি করা হয়েছিল।
নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন বলছেন, ইফতারের পর থেকে তিনি না খেয়ে ছিলেন, রক্তচাপ কমে গিয়ে অসুস্থ হন। তাঁকে নির্যাতনের বিষয়টি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও খতিয়ে দেখছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, জনতা ব্যাংকের দুপচাঁচিয়া শাখার কর্মকর্তা শুভ মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন কয়েক মাস ধরে। সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুতে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দেন।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারী সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকায় মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে শুভকে ভর্তি করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।##