মিরু হাসান,স্টাফ রিপোর্টাল:
বগুড়ার আদমদীঘিতে টাকা ছাড়া প্রকল্পের ফাইলে স্বাক্ষর দেননা ইউএনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্প ভেদে বিভিন্ন পার্সেন্টে টাকা দাবী করেন তিনি। তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হলে বাড়ে জটিলতা। এমন অভিযোগ তুলেছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। এতেকরে তিনি সকলের কাছে সমালোচনার মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় গ্রামীণ পর্যায়ে জনসাধারণের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন সরকার। প্রতি অর্থ- বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এই প্রকল্পের অধীনে উপজেলা পর্যায়ে লাখ লাখ টাকা ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দ দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম রাস্তা, ব্রীজ ও ড্রেন নির্মাণ করায় এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পিআইসি’র মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে এ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। যার তদারকি করেন
উপজেলা প্রশাসন। ফলে সংশ্লিষ্টদের হাতে এসব বরাদ্দের সার্বিক ক্ষমতা থাকার কারনে একরকম জিম্মি করে রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের।
সরজমিনে বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত অনুসন্ধান চালায় গণমাধ্যম কর্মীরা।
কথা হয় উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ও সদস্যদের সঙ্গে। তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে নারাজ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চেয়ারম্যানরা জানান, বর্তমান ইউএনও উপজেলায় যোগদানের পর গত ৭মাস ধরে পরিষদের জন্য বরাদ্দ ওয়ান পার্সেন্ট প্রকল্প খাত আমারা একটি টাকাও পাইনি। তাঁর নিকট আবেদন করলে তিনি প্রাপ্য টাকার ৫০ শতাংশ দিতে হবে বলে দাবী করেন।
তারা অভিযোগের সুরে বলেন, রাজি না হওয়ায় দিনের পর দিন এই খাত থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। অথচ বিগত দিনে এমন ছিলনা। আমরা সময়মতো ওয়ান পার্সেন্ট প্রকল্পের টাকা পেয়ে যেতাম। এবং প্রাপ্ত সেই টাকা দিয়ে ছোট-বড় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করতাম। শুধু তাই নয় হাটবাজার রক্ষণাবেক্ষণের প্রকল্পের কাজের বিল তুলতে গেলেও ইউএনও রুমানা আফরোজ ১০ পার্সেন্ট টাকা নেন। অন্যথায় বিল দিতে দেরি করে, সমস্যা দেখিয়ে জটিলতা বৃদ্ধি করান তিনি। যেন তাঁর কাছে প্রকল্পের কাজের পার্সেন্টেজ বৈধ হয়ে গেছে, এটা তাঁর অধিকার। এমন পরিস্থিতি ও বিড়ম্বনা থেকে সকলে পরিত্যাণ পেতে চান।
একইভাবে ইউএনও বিরুদ্ধে পার্সেন্টের ফিরিস্তি তুলে ধরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য জানান, দুই মাসে আগে ইউএনও’র কাছে প্রায় ৭ লাখ টাকার একটা প্রকল্পের বিলের জন্য গিয়েছিলাম। তিনি ওই সময় ৫ পার্সেন্ট হিসাবে টাকা দাবী করে। প্রথমে তাঁর কথা শুনে অবাক হই। কারন এর আগে এভাবে কেউ চায়নি। যেহেতু তিনি এখন দায়িত্বে তাই বাধ্য হয়ে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়।
এ বিষয়ে সান্তাহার পৌরসভার এক কাউন্সিলর জানান, টিআর প্রকল্পের প্রায় ৪লাখ টাকার একটি বিলের জন্য ইউএনও সঙ্গে কথা হলে তিনি প্রথমে ১ লাখ টাকা দাবী করেন। তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দুই মাস ধরে বিল আটকে রাখে। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সমঝোতা করি। এরপর প্রকল্পের বিলটি তুলতে পারি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ এমন অভিযোগ বিষয়ে বলেন, আমার সঙ্গে প্রকল্পের কাজে কোন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্পৃক্তা নেয়। এ বিষয়ে পিআইও বলতে পারবে।