বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
যশোর-৮৫/১( শার্শা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৭০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তাদের তিন ছেলের নামে সন্দেহভাজন সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শেখ আফিল উদ্দিনের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮৮ টাকার স্থাবর এবং ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯ হাজার ২৮১ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে পাওয়া গেছে আরও ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৭২ টাকা।
তবে দুদকের অনুসন্ধানে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৭ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৮৫০ টাকা। অর্থাৎ ঘোষিত আয় ও অর্জিত সম্পদের মধ্যে ৪৬ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৪২২ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এ অভিযোগে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে তার স্ত্রী মোছা. তাহেরা সোবহা-র বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে। তার নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৩ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ টাকা। অথচ বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৭ টাকা। ফলে তার বিরুদ্ধেও ১৬ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার ৩০৮ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
এ ছাড়া সাবেক এমপির তিন ছেলে— শেখ কুতুবুদ্দিন, শেখ তামিম উদ্দিন ও আফনান উদ্দিন—এর নামে মোট ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ টাকার সন্দেহভাজন সম্পদের তথ্য পাওয়ায় তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনাপোল প্রতিনিধি।