• মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গাজীপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের পক্ষ থেকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন – আনোয়ার সরকার গাজীপুর ইউনিয়ন বাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন – চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম গাজীপুর ইউনিয়ন এর সর্বস্তরের জনগণকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন – এনামুল হক মনি গাজীপুর ইউনিয়নবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাসেল আহমেদ ঠাকুরগাঁওয়ের রহস্যময় ৭০ হাত লম্বা করব নিয়ে রহস্য!  শার্শায় পিআইওকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক, মানববন্ধন-ষড়যন্ত্রে উত্তপ্ত পরিস্থিতি গোদাগাড়ীতে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘সেলার বিডি’র জমকালো উদ্বোধন ভূল্লী থানার ওসির কড়া হুঁশিয়ারি: হয় মাদক ব্যবসায়ী থাকবে,নয় আমরা থাকবো বগুড়ায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় শিল্পপতি শিরু কারাগারে গোদাগাড়ীতে ১২ কেজি গান পাউডার ও কাঁচের গুঁড়া উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৫

ঠাকুরগাঁওয়ের রহস্যময় ৭০ হাত লম্বা করব নিয়ে রহস্য! 

Reporter Name / ৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ / ই-পিন্ট / ইপেপার ই-পিন্ট / ইপেপার
Oplus_131072

নিউজ ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের শিয়ালগাজী গ্রাম। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এই গ্রামের একটি কবরস্থান ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য।

কোনো সাধারণ কবর নয়, স্থানীয়দের দাবি- এখানে শুয়ে আছেন এক পীর, যার কবরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ হাত! অস্বাভাবিক দৈর্ঘ্যের এই কবর আর তাকে ঘিরে প্রচলিত নানা অলৌকিক কাহিনী এখন মুখে মুখে ফিরছে জেলাজুড়ে।
সরেজমিন দেখা যায়, শিয়ালগাজী কবরস্থানের এই বিশেষ কবরটি লালসালু কাপড়ে মোড়ানো। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ ‘দারগা পীর’ হিসেবে পরিচিত এই স্থানে সালাম দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। সাধারণ কবরের তুলনায় কয়েকগুণ বড় এই সমাধিটি স্থানীয়দের কাছে এক গভীর আধ্যাত্মিকতার প্রতীক।

স্থানীয় বাসিন্দা মুনছুর আলী জানান, এই কবর ঘিরে অলৌকিকত্বের শেষ নেই।

তার দাবি, পীরের মাজার ও পার্শ্ববর্তী পুকুর নিয়ে অনেক রহস্য আছে। ঠিকমতো সেবাযত্ন করলে পুকুরে মাছের দেখা মেলে, অন্যথায় মেলে না। আমি নিজেও এখানে মানত করে সুফল পেয়েছি।

গোগর বাজারের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, এখানে নিয়মিত মিলাদ, ফাতেহা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। বিশেষ দিনগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে রান্না করে শিরনি বিতরণ করেন।

তাদের দাবি, এই নীরব ও নিভৃত আধ্যাত্মিক পরিবেশ মনের প্রশান্তি জোগায়। তবে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, এই লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

মজার বিষয় হলো- এই মাজারের অবকাঠামোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি।

স্থানীয় লেহেম্বা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা মাজারটির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দিয়েছিল। তখন থেকেই মূলত জনসমাগম ও মানত করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

তবে মানুষের এই অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ধর্মীয় আলেমরা।

আবাদতাকিয়া মোহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আইয়ুব আলী বলেন, কবরটি বহু পুরোনো এবং মানুষ বিপদে পড়ে জিয়ারত করতে আসেন। তবে মনে রাখতে হবে, ফল দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। মাজার কোনো কিছু দিতে পারে- এমন বিশ্বাস সঠিক নয়।

লিখিত কোনো সঠিক ইতিহাস না থাকলেও শিয়ালগাজীর এই ৭০ হাত লম্বা কবর এখন গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কি শুধুই অলৌকিকত্ব, নাকি কোনো দীর্ঘকায় প্রাচীন মানুষের সমাধি— সেই রহস্যের জট আজও খোলেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা