মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজীপুর:
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক কলেজ ছাত্রকে তুলে নিয়ে
জোরপূর্বক অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তরুণীর সঙ্গে রেজিষ্ট্রি কাবিন করে বাল্যবিয়ে সম্পাদনের অভিযোগে এক কাজী সহকারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত মঙ্গল বার ( ১৭ ডিসেম্বর) রাতে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতাহার শাকিল এই দণ্ড প্রদান করে । ভুক্তভোগী ঢাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থী, তার বাড়ি বরিশাল জেলায়।
দণ্ডপ্রাপ্ত কাজীর সহকারী মো. আব্দুস সামাদ (৩৫) শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের মো. ইব্রাহিম খলিলের ছেলে। তিনি বিভিন্ন কাজীর কাছ থেকে বই নিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রি (কাবিন) এর কাজ করে থাকেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মোঃ মেহেদী হাসান আশিক জানান, বরিশালের এক মহিলা উপজেলা নিবার্হী স্যারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া পর তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত কাজী কে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সজীব আহমেদ বলেন, বরিশালের এক বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন কলেজ ছাত্র কে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এক তরুণীর স্বজনরা। এরপর অভিযুক্ত কাজীর সহকারী আব্দুস সামাদকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে কাজীর সহকারী পাশ্ববর্তী ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের এক কাজীর নিকাহ রেজিস্ট্রার (বালাম বই) এনে অস্ত্রের মুখে কলেজ ছাত্রের সঙ্গে এক তরুণীর
বাল্যবিয়ে সম্পাদন করেন। পাশাপাশি তাদের রেজিষ্ট্রেশন কাবিন নামা করেন।
অভিযোগে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রের মা জানিয়েছেন, কাবিন নামায় ৮ লক্ষ টাকা মোহরানা উল্লেখ করা হয়েছে। তরুণী স্বজনরা গাজীপুরা ২৭ এলাকা হতে তার ছেলেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিকাহ রেজিস্ট্রার বালাম বইয়ে সই স্বাক্ষর সম্পাদন করেন। এমন অভিযোগে অভিযুক্ত কাজীর সহকারীকে দণ্ড প্রদান করেন সহকারী কমিশনার ভূমি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেট এক্সিকিউটিভ মো. আতাহার শাকিল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন ও রেজিষ্ট্রি কাবিন করার অভিযোগে কাজীর সহকারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযুক্ত কাজীর সহকারী ইতিপূর্বে এধরণের একাধিক কাজ সম্পাদন করেছে বলে সত্যতা প্রমাণ পাওয়া যায়।